২৪ মার্চ ২০২৬
preview
মানব পাচারের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার: ডিবি

NirobDhoni


রাজধানীর পল্টন থানার মানব পাচারের একটি মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা ও ফেনীতে মোট ১১টি মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা দুইটার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

ডিবি জানায়, সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে পল্টন থানার মানব পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডিবি সূত্রে বলা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ৬টি এবং ঢাকা মহানগর এলাকায় ৫টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ফেনীর তিনটির বিচার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান। বিচারাধীন অবস্থায় তিনি পলাতক ছিলেন বলে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন বলে জানান কর্মকর্তারা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর পল্টন, বনানী, কোতোয়ালি, মিরপুর ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা থেকে সংসদ সদস্য—পটভূমি ও সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার

রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের একদিন পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পল্টন থানার মানব পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ডিবি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলায় ৬টি এবং ঢাকা মহানগর এলাকায় ৫টি মামলা। ফেনীর তিনটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, বিচারাধীন মামলাগুলোর কারণে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

কোন কোন অভিযোগ রয়েছে

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর পল্টন, বনানী, কোতোয়ালি, মিরপুর ও হাতিরঝিল থানায় তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানব পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্ত করছে।

এক-এগারোর সময়ের ভূমিকা

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি ছিলেন। এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তিনি গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির অধীনেই সে সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়।

পরবর্তী সময়ে তিনি পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। ২০০৮ সালে তাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পরে তাঁর চাকরির মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়।

রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া

অবসরের পর তিনি ঢাকায় রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত হন। পরে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়নে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন এবং দলীয় মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নেন।

কী জানা যায়, কী জানা যায়নি

যা জানা গেছে:

বারিধারা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে

পল্টন থানার মানব পাচারের মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে

তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে

যা স্পষ্ট নয়:

মানব পাচারের মামলার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

মামলার সময়কাল ও অভিযোগকারী কারা

প্রিমিয়াম বিশ্লেষণ:

থিসিস: সাবেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার রাজনৈতিক ও আইনি—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

প্রথমত, আইনগত দিক থেকে এটি এমন একটি মামলা যেখানে একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও দুই দফার নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ডিবির তথ্য অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মানব পাচারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যার কিছু বিচারাধীন। ফলে গ্রেপ্তারের পর মামলাগুলোর অগ্রগতি ও আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

দ্বিতীয়ত, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর অতীত ভূমিকা—বিশেষ করে ২০০৭ সালের এক-এগারো সময়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে তাঁর অবস্থান—তাঁকে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রেখেছে। পরবর্তীতে কূটনৈতিক দায়িত্ব ও রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁর পরিচয়কে আরও বিস্তৃত করেছে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাল্টা দিকও রয়েছে। বর্তমানে যে অভিযোগগুলো সামনে এসেছে, সেগুলোর অনেকই তদন্তাধীন বা বিচারাধীন। ফলে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলো প্রমাণিত হিসেবে বিবেচিত হয় না—এই আইনি বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

জনস্বার্থের দিক থেকে এই ঘটনা দেখাবে, চলমান মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া কত দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে এগোয় এবং অভিযোগগুলোর আইনি পরিণতি কী দাঁড়ায়।


এমডি রহমান

ফোন : +1 4647335595, ই-মেইল: protidhoni24@gmail.com