NirobDhoni
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। এক মাসের মধ্যেই এটি দ্বিতীয়বারের মতো মূল্য সমন্বয়।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন দর আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এই দাম ছিল ১১২ টাকা ৪১ পয়সা। ফলে এক লিটারে দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা।
এর আগে গত ৮ মার্চ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে ১৭ টাকা ২৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। গত মাসে এই জ্বালানির দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা প্রতি লিটার।
বিইআরসি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এক মাসে দুই দফা মূল্য সমন্বয়
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারে। সেই প্রেক্ষাপটে দেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম এক মাসে দ্বিতীয়বার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, নতুন মূল্য আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ২০২ টাকা ২৯ পয়সা। এর আগে এ দাম ছিল ১১২ টাকা ৪১ পয়সা। অর্থাৎ এক দফায় প্রায় ৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের ৮ মার্চ প্রতি লিটারে ১৭ টাকা ২৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। গত মাসে একই জ্বালানির দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
সূত্র অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তীতে ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলের বড় অংশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় জ্বালানি স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি আটকে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটেও মূল্যবৃদ্ধি
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার করা হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আপত্তি
তবে এই মূল্যবৃদ্ধিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)।
সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং এসব তেল পূর্বনির্ধারিত মূল্যে কেনা হয়েছে।
এওএবি দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম কমার প্রবণতা রয়েছে। সে কারণে ভবিষ্যতে মূল্য বাড়ার আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় পরিসরে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সংগঠনটির মতে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইনসগুলো আর্থিক চাপে পড়তে পারে এবং এর প্রভাব যাত্রীভাড়ায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি কিছু অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
নীতিগত পরিবর্তন
আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ–১ জ্বালানির দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে দেওয়া হয়।
এর পর থেকে সংস্থাটি নিয়মিতভাবে মূল্য সমন্বয় করছে।
মূল থিসিস: বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার সরাসরি প্রতিফলন এখন দেশের বিমান খাতে জেট ফুয়েলের দামে দেখা যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ বাধাগ্রস্ত হলে বাজারে দ্রুত দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ক্ষেত্রে সেই চাপ দ্রুত অভ্যন্তরীণ দামে প্রতিফলিত হতে পারে।
তবে এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দেশের এয়ারলাইন অপারেটরদের আপত্তি দেখায় যে বাজারের বাস্তবতা ও নীতিগত মূল্য নির্ধারণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাম্প্রতিক প্রবণতার সঙ্গে এই বৃদ্ধি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আরেকটি বিষয় হলো, জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে সরাসরি বিমান পরিচালনার খরচ বাড়ে। ফলে এয়ারলাইনগুলো ভাড়া বাড়াতে পারে বা কিছু কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তবে পাল্টা যুক্তি হচ্ছে—যদি বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদে দাম বাড়তেই থাকে, তাহলে আগাম মূল্য সমন্বয় করে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ভবিষ্যতের ঝুঁকি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
জনস্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে বড় প্রশ্নটি হলো—এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ শেষ পর্যন্ত যাত্রীভাড়া, বিমান চলাচল এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যয়ের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে।
এমডি রহমান
ফোন : +1 4647335595, ই-মেইল: protidhoni24@gmail.com